জানা যায় আনুমানিক ৮০ বছর আগে ঢাকার এক পরিবার এই গ্রামে এসে এই কবন্ধ মূর্তির পুজো শুরু করেছিলেন। ক্রমে পারিবারিক গণ্ডি পার করে তা গ্রামের বারোয়ারি পূজো হয়ে গিয়েছে

নদিয়া: গ্রামের অশ্বত্থতলায় শান বাঁধানো বেদিতে থাকেন দেবতা। নাম স্কন্ধনাশা। পৌষ সংক্রান্তি থেকে পরপর তিনদিন অদ্ভুত দর্শন এই দেবতার পুজো সারলেন নদিয়ার নাকাশিপাড়া থানার অন্তর্গত পাটকেবাড়ি পঞ্চায়েতের তৈবিচারা গ্রামের মহিলারা।

লোকমুখে জানা যায় এই পুজো করতে হয় দেবতার পায়ের কাছে বসে। অর্থাৎ মূর্তির পিছন দিকে। পৌষ সংক্রান্তির রাতে আলোবিহীন গাছ তলায় গা ছমছমে পরিবেশে মোমবাতি, প্রদীপ, ধূপ হাতে জড়ো হন মহিলারা। বাকি দুদিন পুজো হয় দিনের আলোয়। কেউ প্রার্থনা করলেন নিজেদের ফসল রক্ষা করার জন্য, কেউ চাইলেন সন্তান, আবার কেউ চাইলেন পারিবারিক সুখ শান্তি, আবার কেউ বা চাইলেন সুস্থতা।

জানা যায় আনুমানিক ৮০ বছর আগে ঢাকার এক পরিবার এই গ্রামে এসে এই মূর্তির পুজো শুরু করেছিলেন। ক্রমে পারিবারিক গণ্ডি পার করে তা গ্রামের বারোয়ারি পুজো হয়ে গিয়েছে। ওই পরিবারে উত্তরসূরি স্বপন সরকার জানান, তার জ্যাঠা প্রয়াত পূর্ণচন্দ্র সরকার ও জেঠিমা অবলা সরকার নিঃসন্তান ছিলেন। সন্তান লাভের আশায় এই পুজো করেন তাঁরা। কথিত আছে তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন অনেক সন্তান হবে তার। তার জ্যাঠাজেঠিমার প্রচুর শীর্ষ জুটে ছিলেন, তাদেরকেই সন্তান ভাবতেন তাঁরা।

পুজোর বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাবা জ্যাঠাদের কাছে শুনেছি শিবের অনুচর হিসেবে পূজিত হন এই দেবতা। নির্দিষ্ট কোনও মন্ত্র নেই। কিন্তু এই পুজো করতে হয়, খুব সাবধানে এবং শুদ্ধ বস্ত্রে। আগে পৌষ সংক্রান্তির দিন মাটি দিয়ে এই মূর্তি তৈরি করা হতো। রোদ, জলে বার বার মূর্তি নষ্ট হয়ে যায় বলে কয়েক বছর আগে স্থায়ী ভাবে সিমেন্টের মূর্তি গড়া হয়েছে।

তবে দেবতার পুজো পিছন দিক থেকে হয় কেন জানতে চাইলে পরিবারের অন্য এক সদস্য তপন সরকার জানান, এটাই এখানে প্রচলিত। তিনি শুনেছেন যাতে সহজেই দেবতার পায়ে ফুল দেওয়া যায়, সেই কারণেই এই ব্যবস্থা। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে পৌষ পার্বণকে কেন্দ্র করে নানান লৌকিক উৎসবের প্রচলন রয়েছে। অঞ্চল ভেদে রীতিও আলাদা হয় সেগুলির। এ ধরনের লোকদেবতার উৎস ও সামাজিক সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বর্তমানে অনুসন্ধান করা ভীষণভাবে জরুরি বলে মনে করছেন অনেকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *