খবর ও সর্বশেষ সংবাদের জন্য চোখ রাখুন জনতার আওয়াজের পর্দায়

৫০ টাকা দরে কম্পিউটার সরঞ্জাম বিক্রি: শাস্তি শুধুই ভর্ৎসনা

বন্ধ ক্যাম্পাসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ৫০ টাকা দরে পুরাতন কম্পিউটার সরঞ্জাম বিক্রির ও কোষাগারে টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্টেট অফিস পরিচালকসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই ও ঘটনা তদন্তে তদন্ত কমিটি করে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মেলে। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।

তবে প্রমানিত অপরাধে শাস্তি হিসেবে কর্মকর্তাদেরকে শুধু ভর্ৎসনা আর সতর্ক করেই ঘটনার পরিসমাপ্তি করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে স্টেট পরিচালক টিপু সুলতান ও শাখা কর্মকর্তা নাজমূল হোসেনকে ভর্ৎসনা ও সতর্ক করা হয়েছে।

অপর দুজন- শাখা কর্মকর্তা উকিল উদ্দীন ও সহকারী রেজিস্ট্রার বকুল হোসেনকে একাজে সংশ্লিষ্ট থাকায় শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

অপরাধ প্রমানিত হওয়ার পরেও ভর্ৎসনা ও সতর্ক করার মতো ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অপর এক অফিস আদেশে ওই চার কর্মকর্তাকে ভিন্ন চার দপ্তরে একই পদমর্যাদায় বদলি করা হলেও এটি ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে শাস্তিমূলক কী না তা উল্লেখ করা হয়নি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ২৫ এপ্রিল বন্ধ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই স্টোর রুম পরিষ্কারের নাম করে সেখানে সংরক্ষিত পুরাতন কম্পিউটার সরঞ্জাম ও জিনিসপত্র বিক্রি করেন তারা।

এ থেকে ৫০ টাকা দরে ৪৩টি কম্পিউটারের পুরনো মনিটর, ভাঙাড়ি টিনের দরে (৪১ টাকা কেজি দরে) ৪৩টি সিপিউ, একটি পুরাতন টাইপিং মেশিন, প্রিন্টার, তিনটি ফটোকপি মেশিন এবং গড়পরতা দামে একটি পুরনো এসি, ২৩ কেজি ওজনের ৬টি লোহার পাইপ, প্রায় সাড়ে চারশ কেজি পুরনো কাগজসহ প্রায় ২০ হাজার টাকায় মালামাল বিক্রি করেন তারা।

এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর স্টেট পরিচালক টিপু সুলতানতকে শোকজ করা হয়। সোকজের জবাবে সন্তুষ্ট না হতে পেরে প্রশাসন ৩১ মে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়।

একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রফেসর ড. মামুনুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘প্রক্রিয়া না মেনে বিক্রি ও টাকা জমা না দেওয়ার বিষয়টির প্রমাণ পেয়েছি। তবে তদন্ত কমিটিকে শুধু প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছিল। সে আলোকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। কমিটির পক্ষ থেকে শাস্তির বিষয়ে কোন সুপারিশ করিনি।’

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত কমিটির রিপোর্টেই বলা হয়েছে যে তারা মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে এ কাজ করেছিল। তাদের প্রক্রিয়াগত কিছু সমস্যা ছিল। পরে টাকাও জমা দিয়েছে। এ জন্য তাদেরকে ভর্ৎসনার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.